উপজেলা নির্বাচনে তৃণমূল বিএনপি: বিএনপির হাইকমান্ডে উদ্বেগ

সারাদেশে উপজেলা নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো বিএনপি। কিন্তু উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ধাপে বেশির ভাগ উপজেলায় কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করেছেন দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তারা অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন এবং নির্বাচন করেছেন। কেন্দ্রের নির্দেশ অমান্য করে উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় তারেকের নির্দেশে গত কয়েকদিনে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের তিন শতাধিক নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। এ নিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। তারা বলছেন এইভাবে বহিষ্কার করা হলে বিএনপির তৃণমূলে নেতৃত্বশূণ্যতা দেখা দিবে।
এদিকে বিএনপির এমন বহিষ্কারাদেশ নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে। কারণ যেকোনো রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমের নিউক্লিয়াস হচ্ছে তৃণমূল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কেন্দ্রের চেয়ে বেশি সোচ্চার ছিলেন তৃণমূল নেতারা। তারা তখন বলেছিলেন, খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে যাবেন না। আর এখন দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে তারাই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করে কেন্দ্রীয় নেতাদের কেউ কেউ কৌশলী জবাব দেন। তারা বলছেন, তৃণমূল নির্বাচনমুখী। তাদের নির্বাচন থেকে বিরত থাকা অসম্ভব। এটা করলে দলের কাঠামো ভেঙে পড়বে।
বগুড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় ৩২ জনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বগুড়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন বলেন, ‘একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে তৃণমূলের সিদ্ধান্ত ছিল—খালেদা জিয়াকে ছাড়া এই সরকারের অধীনে নির্বাচন অংশগ্রহণ না করা। কিন্তু তৃণমূলের সিদ্ধান্তকে আমলে নেওয়া হয়নি। যারা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন, তাদের বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান। এভাবে প্রতিনিয়ত তৃণমূলের মতামতকে উপেক্ষা করলে দলের মধ্যে বিপর্যয় দেখা দিবে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির থিংকট্যাংক হিসেবে পরিচিত ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচনে এত বড় পরাজয়ের পরও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি জেলার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেনি। তারা একবারও জানতে চায়নি যে, তৃণমূল বিএনপি কী চায়। তারা শুধু তারেক জিয়া কী বলবে, সেটার অপেক্ষায় বসে থাকে।’
দেশের একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে বিএনপি এখনো তারেক বলয় থেকে বের হতে পারেনি। দলের অনেকেই বিভিন্ন বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করলেও তারেকের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস করেন না বহিষ্কার হবার ভয়ে। তারেকের নির্দেশে উপজেলা নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত বিএনপির জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *