রিজভীর নেতৃত্বে তৃণমূলের অংশগ্রহণে আসছে নতুন বিএনপি, উদ্বিগ্ন হাইকমান্ড

নিউজ ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভয়াবহ ভরাডুবি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে মতের অমিল, জামায়াতের নীরবতা এবং নমিনেশন বাণিজ্যে জড়িয়ে যাবার পর থেকে মির্জা ফখরুলপন্থী নেতাদের আর বিশ্বাস করতে পারছে না তৃণমূল বিএনপির নেতারা। ফলে মির্জা ফখরুলপন্থী নেতাদের সরিয়ে দিয়ে তৃণমূল বিএনপির অংশগ্রহণে রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে নতুন রূপে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে বিএনপি। দলটির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

একটি সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্বের প্রশ্নে দলের নেতা-কর্মীরা মূলত দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল। সিনিয়র নেতাদের সমর্থনে ফখরুল-মওদুদ ও তারেক-রিজভীর সমর্থনে আরেকটি পক্ষের বিভাজন ছিল ওপেন সিক্রেটের মতো। সেকারণেই একই ইস্যু নিয়ে প্রায়শই মির্জা ফখরুল ও রিজভী আহমেদকে আলাদা আলাদাভাবে সংবাদ সম্মেলন করতে দেখা গেছে। তারা বিভিন্ন ইস্যুতে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য প্রদান করছিলেন।

এ বিষয়গুলো দলের চেয়ারপারসন বেগম জিয়ার কারাবাসের পর আরো স্পষ্ট হতে শুরু করেছিলো। জাতীয় নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর এ বিষয়টি আরো ঘনীভূত হয়। মূলত খালেদা জিয়া কারাগারে যাবার পর থেকেই মির্জা ফখরুল, মওদুদ আহমেদ ও মঈন খান নিজেদের দলের হর্তা কর্তা ভাবতে শুরু করেছেন। তারা নিজেদের মতো ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে পদ বঞ্চিত বিএনপি নেতারা। তাই সকল বঞ্চনা দূর করে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের নিয়ে নতুন করে বিএনপিকে সাজাতে কাজ করছেন রিজভী আহমেদ। মূলত তারেক রহমানের গ্রিন সিগন্যাল পেয়েই রিজভী এই কাজে হাত দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে রিজভীপন্থী এক নেতা বলেন, দলীয় কোন্দল ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির মাধ্যমে বিএনপিকে দুর্বল করে দেয়ার ষড়যন্ত্রে মির্জা ফখরুলসহ কিছু নেতা লিপ্ত, যা বিএনপির সকলেই জানে। মির্জা ফখরুলরা সরাসরি সরকারের পরামর্শেই বিএনপি চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে মির্জা ফখরুলের কিছু অস্বাভাবিক আচরণও এই ধারণাকে আরো দৃঢ় করেছে। যেমন বিশেষ ফোন এলেই তিনি নেতা-কর্মীদের থেকে দূরে গিয়ে ফোন রিসিভ করেন এবং প্রায় প্রতিদিনই রাত বারোটার পর তাকে বাসায় পাওয়া যায় না। তিনি বিভিন্ন পর্যায়ের লোকদের সাথে বৈঠক করেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়। এছাড়া দলের অনেক সিনিয়র নেতাদের মামলার তুলনায় তার মামলা দ্রুত জামিন এবং তার পরামর্শেই দলে তার বিরোধিতাকারীদের গ্রেফতার করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণসহ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কার্যকরী নেতৃত্বের অভাবে তাকে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে বলেও গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

বর্তমান বিএনপিতে হাইকমান্ডকে উপেক্ষা করে রিজভীর নেতৃত্বে ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারা মাথাচাড়া দেয়ার চেষ্টা করছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এখন আর মির্জা ফখরুলের কথা মতো বিএনপি চলে না। বিএনপি চলে রিজভীর নেতৃত্বে। রিজভী তৃণমূল ও দ্বিতীয় সারির নেতাদের মাধ্যমে নতুন একটি অদৃশ্য সিন্ডিকেট গঠন করে বিকল্প বিএনপি সৃষ্টির পায়তারা করছেন। যদিও পদাধিকার বলে এখনো মির্জা ফখরুল দলের মহাসচিব রয়েছেন। তবে অতিসত্বর তারেক রহমান জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি ঘোষণা করবেন বলে জানতে পেরেছি। ততদিন পর্যন্ত অন্তত মির্জা ফখরুলকে সম্মান করা উচিত রিজভীদের। বিভক্তি কখনো সুফল বয়ে আনতে পারে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *