শনিবার উদ্বোধন হচ্ছে ভুলতা ফ্লাইওভার

ঢাকা-সিলেট হাইওয়ে রুটের ভুলতা এলাকায় প্রতিদিন হাজারো যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, লরী চলাচল করে। আর এতে করে প্রতিদিনেই লেগে থাকে অসহনীয় যানজট। আর এই যানজট নিরসনে ২০১৫ সালে শুরু হয় ভুলতা ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ। নির্মাণের চারবছর পর আগামীকাল ১৬ তারিখ উদ্বোধন হতে যাচ্ছে বহুল আকাঙ্ক্ষিত ভুলতা ফ্লাইওভার। উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

চারলেন বিশিষ্ট তিনতলা ভুলতা ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে। ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ায় বদলে গেল রূপগঞ্জের চিত্র। উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে নিত্যদিনের যানজটের এলাকাখ্যাত রূপগঞ্জের যানজট মুক্ত হয়ে যাবে। গতি আসবে নগর জীবনের।

ফ্লাইওভারের ব্যাপারে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মমতাজ বেগম ভুলতা ফ্লাইওভার পরিদর্শন শেষে বলেন, ভুলতা ফ্লাইওভারের গাজীপুর-মদনপুর সড়কের একটি লেন আগামী ১৬ মার্চ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্য দিয়ে খুলে দেয়া হবে ভুলতা ফ্লাইওভার।

স্থানীয়রা জানান, ভুলতা এলাকায় রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম পাইকারি কাপড়ের বাজার গাউছিয়া মার্কেট। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ের সংযোগস্থল হওয়ায় এখানে যানজট নিত্যদিনের সঙ্গী। ভুলতা ফ্লাইওভারের একপাশ উদ্বোধন শেষে খুলে দেয়া হলে যানজট নিরসন হয়ে যাবে। এতে করে সারা দেশের যাতায়াত ব্যবস্থার গতিশীলতা বাড়বে।

পরিবহন শ্রমিকরা জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতা এলাকায় যানজট নিত্যদিনের সঙ্গী। একঘণ্টার পথ যেতে সময় লাগে তিনঘণ্টা। ভুলতা ফ্লাইওভারের কাঞ্চন-মদনপুর লেনের উদ্বোধন হলে যানজট থাকবে না। মুক্তি পাবে এই সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারীরা। ফ্লাইওভারটি উদ্বোধন হলে বন্দর নগরী চট্টগ্রামসহ দেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চল থেকে ঢাকা হয়ে ময়মনসিংহ বিভাগসহ উত্তর পশ্চিমাঞ্চল সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা তথা জনগণের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন দ্রুত, সহজ এবং নিরাপদ হবে।

জানা যায়, ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে ২৪০ কোটি ৫ লাখ ৬৬ হাজার ২০৮ টাকা ব্যয়ে ভুলতা ফ্লাইওভারটির নির্মাণকাজ শুরু করে সরকার। সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রকল্পটির মেয়াদ ছিল গত বছরের জুন পর্যন্ত। ফ্লাইওভারটির নির্মাণে প্রথমে হকারদের কারণে বেগ পেতে হয় নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের।

চারলেন বিশিষ্ট তিনতলা ফ্লাইওভারটি ১.২৩৮ কিলোমিটার লম্বা হবে। যার উভয় গার্ডার অভ্যন্তরে চারলেন বিশিষ্ট। ফ্লাইওভারটি নির্মাণ হচ্ছে রূপগঞ্জের ভুলতা ও গোলাকান্দাইলে। ফ্লাইওভারটি নির্মাণ করছে চায়না রেলওয়ে ২৪ ব্যুরো গ্রুপ, স্পেকট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড ও এমএন বিল্ডার্স লিমিটেড।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *