ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণে কঠোর হচ্ছে সরকার

সাম্প্রতিক সময়ে পুরান ঢাকার চকবাজার ও বনানীর এফআর টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন শতাধিক মানুষ। উক্ত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার শিকার হওয়া দুটি ভবনই নিয়ম নীতি না মেনে বিল্ডিং কোড তোয়াক্কা না করে তোলা হয়েছিলো। এমনকি উক্ত দুটি ভবনে অগ্নি-নির্বাপণেরও কোনো ব্যবস্থা ছিলো না। এসব অগ্নিকাণ্ডের পর রাজধানী ঢাকা থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণে কঠোর হতে যাচ্ছে সরকার। এরই মধ্যে রাজধানীর ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সিটি কর্পোরেশন।
২০১৭ সালে পরিসংখ্যানেই ছিল, রাজধানীর ৪৮ শতাংশ শপিং মল এবং মার্কেট অতি ঝুঁকিপূর্ণ। বাকি ৫১ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ। সন্তোষজনক মাত্র ৫টি। এছাড়া দুই বছর আগে এক পরিসংখ্যানে, রাজধানীর ৯৯ শতাংশ শপিং মল ও মার্কেট ভবন ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এমন ভবনে লাখ লাখ ক্রেতা ও ব্যবসায়ী করছেন বেচাকেনা। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোকে বারবার সতর্ক করেও মিলছে না কোন ফল। এবার তাই কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে দুই সিটি কর্পোরেশন।
দুই সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি রাজধানীতে ঝুঁকিপূর্ণ সকল ভবন অপসারণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। গত শনিবার ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েশন (ডুরা) ‘ইমারত নির্মাণে সরকারের দায়িত্ব ও নাগরিকদের করণীয়’ শীর্ষক ‘মিট দ্য প্রেস’ সেমিনারে ঝুঁকিপূর্ণ সকল ভবন চিহ্নিত করে এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছেন। ভবন নির্মাণে অনুমোদিত নকশার বাইরে মালিকের নিজস্ব প্ল্যান বাস্তবায়ন করে ভবন নির্মাণ কোনক্রমেই সহ্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন উক্ত মন্ত্রী।
তিনি আরও বলেছেন, পুরান ঢাকার জন্য আমরা রি-ডেভেলপমেন্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এছাড়া শুধু ভবন মালিক নন অবৈধ ভবন নির্মাণের সঙ্গে জড়িত কোন রাজউকের ইন্সপেক্টর থেকে শুরু করে রাজউক বোর্ডের সদস্য জড়িত থাকলে তাকেও কোন ছাড় দেয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মন্ত্রী।
ঢাকার বহুতল ভবনগুলোর অবস্থা জানতে ২৪টি পরিদর্শক দল গঠন করে দেয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এসব দলের সব রিপোর্ট নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমরা বসে পরবর্তী করণীয় ঠিক করব। এসব ভবনে যা যা ত্রুটি পাওয়া যাবে তা সমাধান করতে মালিককে নির্ধারিত সময় বেঁধে দেয়া হবে। ওই সময়ের মধ্যে ঠিক না করতে পারলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *