মাদ্রাসা ছাত্রীর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া অধ্যক্ষ শিবির সমর্থক

নিউজ ডেস্ক: ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সোনাগাজী ইসলামিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজুদ্দৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করায় নুসরাত জাহান রাফি নামের মাদ্রাসা ছাত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করে ওই অধ্যক্ষ শিবির সমর্থক। ওই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মর্মাহত হয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি ওই ছাত্রীর সব ধরনের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে রোববার (৭ এপ্রিল) এ কথা জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান সমন্বক ডা. সামন্তলাল সেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই ছাত্রীর সার্বিক দায়িত্ব নেয়ার পাশাপাশি তার চিকিৎসাসহ সার্বিক বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। আমরা মেয়েটির চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছি। তার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ওই শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

জানা গেছে, ওই অধ্যক্ষর নির্দেশে ইসলামী ছাত্রী সংস্থার কর্মীদের সহযোগিতায় শিবিরের চার দুর্বৃত্ত বোরকা পড়ে এই হামলায় অংশ নেয়। এর আগে সেই জামায়াত নেতা ও সোনাগাজী ইসলামিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজুদ্দৌলা গত ২৭ মার্চ মাদ্রাসায় নিজ কক্ষে ওই ছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন। এ ঘটনায় ছাত্রীর পরিবারের করা মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজুদ্দৌলা কারাগারে আছেন। ঘটনার জের ধরে আক্রোশের বশবর্তী হয়ে তার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে এমন বর্বরোচিত ঘটনা ঘটায় বলে দাবি অগ্নিদগ্ধ ছাত্রীর ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের।

অগ্নিদগ্ধ শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি। অবস্থা সংকটাপন্ন বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। তিনি হামলাকারী শিবিরের ক্যাডারদের চিনতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন।

তার আত্মীয়রা জানান, মেয়েটি যে মাদ্রাসায় পড়েন, সেখানে অধ্যক্ষ সিরাজুদ্দৌলা সোনাগাজী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির। তিনি এ যাবৎকালে নানা অপকর্ম চালিয়েছেন। প্রভাবশালী হওয়ায় ছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাবের বিরুদ্ধে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

অগ্নিদগ্ধ পরীক্ষার্থী রাফির ভাই নোমান জানান, ঘটনার পর তার বোন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপ করেন। বোনের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, পরীক্ষার কেন্দ্রে যাওয়ার পর একজন পরীক্ষার্থী তাকে বলে, তার এক বান্ধবীকে কারা যেন ছাদে মারধর করছে। এটা শুনে তার বোন ছাদে যায়। সেখানেই এই ঘটনা ঘটে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক পার্থ শংকর পাল সাংবাদিকদের জানান, রাফির শরীরের মুখমণ্ডলের ক্ষতি হয়নি। তবে তার শরীরের ৭৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। শ্বাসনালী পুড়ে না গেলেও রাফির অবস্থা সংকটাপন্ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *