খালেদার দুর্নীতির দায় বয়ে বেড়াচ্ছে ফাতেমা ও তার পরিবার

মানবতা শুধুই সমাজের উঁচুতলার মানুষজনের জন্য বরাদ্দ। একথাটিরই চাক্ষুষ প্রমাণ যেনো বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার গৃহপরিচারিকা বলে পরিচিত ফাতেমা ও তার পরিবার। এতিমের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দী রয়েছেন খালেদা জিয়া। খালেদার দুর্নীতির সাথে কোনো প্রকার যোগসাজেশ না থাকা সত্বেও কারাবরণ করতে হচ্ছে নিরীহ ফাতেমাকে।

খালেদা জিয়ার সাথে বিনা অপরাধে কারাবন্দী গৃহপরিচারিকা ফাতেমা কবে মুক্তি পাবে সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতে দিশেহারা তার পরিবার। প্রায় ১৪ মাস ধরে মায়ের আদর স্নেহ থেকে বঞ্চিত ফাতেমার নিষ্পাপ সন্তানরা। অর্থকষ্ট আর অভাব অনটনে মানবেতর জীবন যাপন করছে ফাতেমার পরিবার। বিএনপির পক্ষ নানা রকম আর্থিক সাহায্যের প্রলোভন দেওয়া হলেও তার কিছুই পায়নি ফাতেমার পরিবার। আর্থিক সাহায্য তো দূরে থাকে সম্প্রতি ফাতেমার পরিবার থেকে অভিযোগ ওঠেছে ফাতেমার পরিবারকে দীর্ঘ ১ বছর ধরে কোনো প্রকার বেতন দেওয়া হচ্ছেনা খালেদার পরিবারের পক্ষ থেকে। এ নিয়ে খালেদার স্বজন ও বিএনপির সাথে যোগাযোগ করে ব্যর্থ হন ফাতেমার বাবা। ধার দেনা করে কোনো রকম চলছে তাদের সংসার।

প্রায় ১০ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর এলাকার এক পরিচিতের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার বাসায় কাজ পান ফাতেমা। বেতন তখন ২ হাজার ছিলো। ১০ বছরে বেতন বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার। শর্ত ২৪ ঘন্টার সার্বক্ষণিক ডিউটি এবং আড়াই থেকে তিন বছর পরপর ছুটি। আগে সন্তানদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সুযোগ হতো তার। কিন্তু খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পর কেবল ২ বার বাবা ছাড়া আর কারো সঙ্গে দেখা হয়নি।

খালেদার আইনজীবী এবং বিএনপির দাবির প্রেক্ষিতেই মূলত নিরপরাধ  ফাতেমাকে খালেদার সাথে কারাভোগ করতে হচ্ছে। অবাক মনে হলেও সত্য পৃথিবীর ইতিহাসে খালেদা একমাত্র আসামী যিনি কারাদণ্ড ভোগ করা অবস্থায় বাইরে থেকে নিরপরাধ গৃহপরিচারিকা সাথে রাখার সুবিধা পেয়েছেন।

নিজের বাবা-মা আর দুই ছেলে-মেয়েকে রেখে কারাগারে মানবেতর দিন পার করছেন ফাতেমা। ফাতেমার সন্তানরা মায়ের অপেক্ষায় এখনো দরজার সামনে অপার হয়ে বসে থাকে। কিন্তু তারা জানে না, বিনা অপরাধে কারাভোগে থাকা তাদের মা কবে ছাড়া পাবে। এক অনিশ্চিত দুশ্চিন্তা এবং উৎকণ্ঠায় দিন পার করছে ফাতেমার পরিবার। ‘দরিদ্র’ হওয়ার অপরাধে ফাতেমার পরিবার কোনোরকম প্রতিবাদও করতে পারছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *