শপথের প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন মির্জা ফখরুল, অনিশ্চয়তায় দলের নির্বাচিতরা!

নিউজ ডেস্ক: চলতি মাসের শেষে শপথ গ্রহণের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে নিজেদের ভবিষ্যৎ এবং দলের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগের প্রতিদান জানতে উদগ্রীব হয়ে পড়েছেন বিএনপির নির্বাচিত সাংসদরা।

দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করার সিদ্ধান্তে প্রাথমিকভাবে অটল থাকলেও দলের ভবিষ্যৎ কর্মসূচিতে সন্দিহান হয়ে পড়েছেন তারা। সঠিক নির্দেশনা না পেলে দু’একজন বিদ্রোহ করে সংসদে যোগদান করতে পারে বলেও গুঞ্জন উঠেছে বিএনপির রাজনীতিতে। মির্জা ফখরুলের সিদ্ধান্তহীনতা ও অদূরদর্শিতায় দলের সাংসদরা হঠকারী সিদ্ধান্ত নিলে সব মিলিয়ে বেগম জিয়া ও দলের ক্ষতির সম্ভাবনা দেখছেন দলটির নির্বাচিতরা। দলটির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে বিষয়গুলো জানা গেছে।

সূত্রটি বলছে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে কী করা হচ্ছে? দল কী করছে? নির্বাচিতরা শপথ নেবেন কি না? বিএনপির নির্বাচিত সাংসদদের এমন প্রশ্নবাণে জর্জরিত হয়েছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল। দলের শীর্ষ নেতারা কী করছেন, তা তারা বুঝতে না পারায় একধরণের হতাশা ও সংশয় দেখা দিয়েছে বিএনপির সাংসদদের মনে।

সূত্র এও বলছে, সোমবার (১৫ এপ্রিল) বিএনপির গুলশান অফিসে মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে বৈঠক করেন বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ও দলের অবস্থান নিয়ে আলোচনা হলেও শপথ নিয়ে কিছু বলেননি মির্জা ফখরুল। খালেদা জিয়ার মুক্তির বিনিময়ে প্রয়োজনে সংসদে যাওয়ার বিষয়ে নির্বাচিতরা অভিমত দিলেও মির্জা ফখরুল এই প্রস্তাবে নীরব ছিলেন।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও-৩ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত জাহিদুর রহমান বলেন, এটা ঠিক বৈঠক নয়, বরং যারা নির্বাচিত হয়েছি তাদের মধ্যে পরিচিতি ও সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিলো। সরকারের অবস্থান বা দলের অবস্থান কিছু বুঝতে পরছি না। তবে এলাকায় জনগণের চাপ আছে। তাই ঢাকায় একত্রিত হয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা-মতবিনিময় করেছি। আমরা তো নির্বাচন করেছি সংসদে যাওয়ার জন্যই। অর্থাৎ সংসদে ক্ষমতাসীন দল অথবা বিরোধী দল হওয়ার জন্য। সময় ফুরিয়ে আসছে দ্রুত। সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে দু’একজন যে কমিটমেন্ট থেকে সরে আসবেন না, সেই নিশ্চয়তাও দেয়া যাচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *