তিনমাস জনগনকে সেবা বঞ্চিত করলেন ‍বিএনপির সাংসদ হারুন

জনগনের ভোটে এমপি হয়েও গত তিন মাস দায়িত্ব না নিয়ে সেবা থেকে নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দাদের বঞ্চিত করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বিজয়ী বিএনপির দুই সংসদ সদস্য। সঠিক সময়ে শপথ নিলে এলাকার উন্নয়ন ও জনসেবায় গত তিন মাস তারা অবদান রাখতে পারতেন। কিন্তু তা না করে হঠাৎ সুর বদল করে শপথ নেয়ায় জনগন তাদের প্রতি বিশ্বাস হারিয়েছেন। তারা বলছেন, সেই তো শপথ নিলো, কিন্তু জনগনকে তিনমাস সেবা বঞ্চিত করে রাখলো শুধু।

এরা হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-০২ আসন থেকে বিজয়ী বিএনপি নেতা মো. আমিনুল ইসলাম ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতা চাঁপাইনবাবগঞ্জ-০৩ আসন থেকে বিজয়ী মো. হারুন অর রশীদ।

নির্বাচনের পর থেকেই তারা শপথ নেয়ার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। ওই সময় তারা নির্বাচন নিয়ে নানা রকম অভিযোগ তুলতেও ছাড়েননি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা গত ২৯ এপ্রিল বিকেলে হঠাৎ করেই স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরির কাছে শপথ নেন। এসময় বিএনপির নির্বাচিত আরো দুজন এমপিও শপথ নেন।

এদিকে নির্বাচিত হবার পরই বিএনপির এই দুই নেতার সুর বদলের এই রাজনীতি দেখে এলাকার বাসিন্দারা হতাশ হয়েছেন। তারা বলছেন, হঠাৎ করে চরিত্র বদলে নেয়া এই শপথ জনগণের জন্য নয়, বরং নিজের স্বার্থের জন্যই নেয়া। এতে করে শুধু এলাকার সাধারণ বাসিন্দারাই নয়, দলীয় নেতা-কর্মীরাও হতাশ হয়েছেন।

এলাকার বাসিন্দারা জানান,এই দুই বিএনপি নেতা নির্বাচনে জেতার আগে জনগনকে এলাকার উন্নয়নসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নিয়েছেন। কিন্তু তারা প্রথমেই বিজয়ী হয়ে শপথ নেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে দুরে থাকেন। এতে করে এলাকার উন্নয়নের প্রত্যাশায় যারা তাদের বিজয়ী করেছিলেন তারা ক্ষুব্ধ হন। দীর্ঘ তিনমাস তাদের কাছ থেকে কোন রকম সেবা পাননি চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসী। তারা বলেন, জনগন অনেক আশা নিয়ে ভোট দিয়েছিলেন। দলমত নির্বিশেষে সবারই আগ্রহ ছিলো তারা সংসদে গিয়ে জনগনের কথা বলবেন। এলাকার উন্নয়ন কাজ করবেন। কিন্তু দীর্ঘ তিন মাস শপথ না নিয়ে তারা জনগনের সঙ্গেই প্রতারনা করেছেন। প্রথমেই শপথ নিলে এই তিনমাসে এলাকার অনেক উন্নয়ন করতে পারতেন তারা।

শুধু জনগনের ক্ষোভই নয়, তিন মাস পর হঠাৎ করে সুর বদল করায় জনগণের মনে নতুন করে সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করেছে। তারা বলছেন, হঠাৎ করে তারা কি উদ্দেশ্যে শপথ নিয়েছেন তা এখনো অন্ধকারে রয়েছেন। কেউ কেউ বলছেন, এতে বিএনপি নিজেরাই সুবিধা নিয়েছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, বিজয়ী হবার পর এমপিরা দলের চাওয়া না মেনেই হঠাৎ করে শপথ নিয়েছেন।

তারা আরো বলছেন, বিএনপি নেতা সাংসদ হারুন অর রশীদ নিজেই সুবিধা নিয়ে চরিত্র বদলে শপথ নিয়েছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের বাসিন্দা এনামুল কবির বলেন, জনগন এলাকার উন্নয়নে নির্বাচনগুলোতে তাদের পছন্দের জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করেন। দলীয় ব্যানারে নির্বাচন হওয়ায় দলীয় প্রতীক এক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তারা আরো বলেন, হারুন অর রশীদ এমপি হিসেব শপথ নিয়েই বলেছেন, সংসদে যেয়ে সে তার দলের নেত্রী খালেদার মুক্তির জন্য কথা বলবেন। আমরা জনগন তাকে ভোট দিলাম আর সে আমাদের কথা না বলে শুধু খালেদার কথা বলবেন, এটা গ্রহনযোগ্য হতে পারে না।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের বাসিন্দা সুরমান আলী বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্চ রাজশাহী তথা উত্তরাঞ্চলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। এখানে রয়েছে স্থলবন্দর, রয়েছে আমের বিশাল বাজার। এই জেলাটিতে এখন পর্যন্ত শিল্পায়ন ঘটেনি। শিক্ষা, স্থাস্থ্য খাতেও এখন পর্যন্ত জেলাটি পিছিয়ে রয়েছে অন্যান্য জেলার তুলনায়। এই যখন অবস্থা, তখন এলাকার মানুষ নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নে একজন যোগ্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাদের পছন্দের জনকেই বেছে নিয়েছেন। এক্ষেত্রে তারা প্রার্থীর কোন দলীয় ইমেজের দিকে লক্ষ রাখেনি। অথচ সেই মানুষগুলোর কথা চিন্তা না করে নির্বাচিত এই জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের ও দলের স্থার্থ হাসিলে সংসদ হিসেবে শপথ নিলেন।

সুরমান আলী সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, প্রথমেই শপথ নিলে এলাকার সমস্যার কথা সংসদে তুলে অনেক কাজ করা সম্ভব হতো। কিন্তু তারা এখন খালেদা জিয়ার মুক্তি, শুল্ক মুক্ত গাড়ী, বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের সদস্য, বিদেশ ভ্রমণসহ নানা সুবিধা নেয়ার জন্যই শপথ নিয়েছেন। তারা জনগনের কোন সুবিধা দেয়ার কথা চিন্তা করছেন না। তিনি আরো বলেন, প্রথমে আপত্তি জানালেও তারা এখন এলাকায় ঢাক ঢোল পিটিয়ে সংবর্ধনাও নিচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *