‘কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসার’ ভয়ে বগুড়া জেলা বিএনপির কমিটি বাতিল!

নিউজ ডেস্ক : জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক পরিমল চন্দ্র দাস ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শাহ্ মেহেদী হাসান হিমুর সদস্যপদ স্থগিত এবং আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নির্দেশের পর থেকে অচলাবস্থা বিরাজ করছে বগুড়া জেলা বিএনপির রাজনীতিতে।

তারই ধারাবাহিকতায় এবার মেয়াদোত্তীর্ণ দাবি করে বাতিল করা হয়েছে বগুড়া জেলা বিএনপির কমিটি। হঠাৎ করে কমিটি বাতিল করার কি প্রয়োজন হলো, সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে।

গুঞ্জন উঠেছে, দুজন নেতার সদস্যপদ স্থগিতের জেরে কেঁচে খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসার ভয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার নামে বাতিল করা হয়েছে বগুড়া জেলা বিএনপির কমিটি। দুজন নেতা কেন্দ্রের একজন প্রভাবশালী নেতার ইচ্ছামতো রাজনীতি না করায় তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। দুজনকে বহিষ্কার করে অর্থের বিনিময়ে নতুন দুটি মুখ কমিটিতে আনার প্রচেষ্টা বাধার মুখে পড়লে বড় ধরণের বিপত্তি এড়িয়ে যেতে বগুড়া জেলা কমিটি বাতিল করে সকল রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। সদ্য বাতিল জেলা বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে গুঞ্জনের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এই বিষয়ে সদস্যপদ হারানো জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক পরিমল চন্দ্র দাস ক্ষোভ নিয়েই বলেন, দলের ঘাঁটি ধ্বংস করার জন্য দলের অভ্যন্তরে কিছু মহল সক্রিয় রয়েছে। কেন্দ্রের একজন নেতার নির্দেশে এমনটা হচ্ছে। তার নাম উচ্চারণ করতে ঘৃণা হচ্ছে আমার। সকলেই জানেন, কার নির্দেশে দলীয় কমিটিগুলো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পায়।

তিনি আরো বলেন, আমাদের দুজনকে সরিয়ে, অর্থের বিনিময়ে ভিন্ন দুজনকে মনোনয়ন দেয়ার গুঞ্জন শুনলে আমরা এর বিস্তারিত জানতে খোঁজ নিলে মনোনয়ন বাণিজ্যের আভাস পেয়েছি। কেন্দ্রের একজন নেতার হস্তক্ষেপে এমনটি হচ্ছে বলে জেনেছি। তাই বিপদ আঁচ করতে পেরে তিনি কমিটি বাতিল করিয়েছেন, যেন কেঁচো খুঁড়তে সাপ না বেরিয়ে আসে। কষ্ট লাগে যখন দলের বেইমানদের চেহারা উন্মোচিত হয়।

বিষয়টিকে দুঃখজনক দাবি করে সদস্যপদ হারানো জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদ্য সাবেক সভাপতি শাহ্ মেহেদী হাসান হিমু বলেন, বিএনপি দখল করে ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে বেইমানরা। সারা বছর দলের জন্য কাজ করেও মূল্যায়ন পেলাম না। অথচ হাইব্রিড ও পয়সাওয়ালাদের কাছে পদ বিক্রি করছেন কেন্দ্রের একজন নেতা। তদন্ত করে যখন জানতে পারলাম এই প্রতারণা কথা, তখন মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা বলে আমাদের শাস্তি দেয়া হলো। এই অন্যায় মেনে নেয়া যায় না।

এদিকে বগুড়া জেলা বিএনপির একাধিক পদ বঞ্চিত নেতার মারফত জানা গেছে, জেলা বিএনপির কমিটি ওলটপালট করা ও মনোনয়ন বাণিজ্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদের নাম উচ্চারিত হলে তিনিই নাকি উপর মহলকে ম্যানেজ করে কমিটি বাতিল করিয়েছেন। আগামী জাতীয় কাউন্সিলে পদ টিকিয়ে রাখার ভয়ে তিনি এমনটা করেছেন, এমন গুঞ্জন এখন বগুড়া বিএনপির রাজনীতিতে ছড়িয়ে পড়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *