সিয়াম সাধনার মাস `মাহে রমজান`

শুরু হলো পবিত্র মাহে রমজান। সিয়াম সাধনার মাস। সোমবার সন্ধ্যায় দেশের আকাশে রমজানের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আজ মঙ্গলবার থেকেই দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রোজাব্রত শুরু করেছে। এর আগে সোমবার রাতে তারাবি নামাজ পড়া এবং শেষ রাতে সেহরি খাওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় মাহে রমজানের আনুষ্ঠানিকতা। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি জানিয়েছে, সোমবার রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আজ (মঙ্গলবার) থেকে রমজান শুরু হচ্ছে। আগামী ২৬ রমজান (১ জুন) শনিবার রাতে সারাদেশে পবিত্র লাইলাতুল কদর উদযাপিত হবে।

এর আগে সোমবার বাদ মাগরিব জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি বৈঠকে বসে। কমিটির পক্ষ থেকে দেশের আকাশে রমজানের চাঁদ দেখা যাওয়ার কমিটির সিদ্ধান্ত জানানোর পরই রাতে মুসল্লিরা ছুটে যান মসজিদের পানে তারাবি নামাজে শরিক হতে। শেষ রাতে সেহরি খাওয়ার মাধ্যমে সিয়াম সাধনাও শুরু করেন। এই সিয়াম সাধনা চলবে মাসব্যাপী।

এদিকে পবিত্র রমজান উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকেও মাসব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠান,আলোচনা সভা, ইফতার মাহফিল ও ইসলামী বইমেলাসহ নানাবিধ কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে রমজান উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ১ হতে ২৫ রমজান পর্যন্ত বয়স্কদের জন্য বোগদাদী কায়দায় কোরান শিক্ষা দেয়া হবে। এদিকে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ চত্বরে ১ রমজান থেকে মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। মাহে রমজানে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেইটে মাসব্যাপী হালাল পণ্য বিক্রি ও প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। প্রদর্শনী প্রতিদিন সকাল দশটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। মেলায় বিশেষ কমিশনের ইসলামী বই বিক্রয় করা হবে। এ ছাড়াও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব দিকে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার রোজাদারের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আজ থেকেই এই ইফতার মাহফিল শুরু হবে।

এদিকে সারাদেশে সকল মসজিদে পবিত্র রমজান মাসে খতম তারাবি পড়ার সময় দেশের সব মসজিদে একই পদ্ধতি অনুসরণ করার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা উল্লেখ করেছে পবিত্র রমজান মাসে দেশের প্রায় সকল মসজিদে খতম তারাবিতে পবিত্র কোরানের নির্দিষ্ট পরিমাণ পারা তিলাওয়াত করার রেওয়াজ চালু আছে। তবে কোন কোন মসজিদে এর ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। এতে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতকারী মুসল্লিদের পক্ষে কোরান খতমের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সম্ভব হয় না। এ অবস্থায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মাঝে একটি মানসিক অতৃপ্তি ও অতুষ্টি অনুভূত হয়। কোরান খতমের পূর্ণ সওয়াব থেকেও তারা বঞ্চিত হন। এ পরিস্থিতি নিরসনকল্পে পবিত্র রমজানে প্রথম ৬ দিনে দেড় পারা হিসাবে ৯ পারা এবং পরবর্তী ২১ দিনে ১ পারা হিসাবে ২১ পারা তিলাওয়াত করলে ২৭ রমজান রাতে অর্থাৎ পবিত্র লাইলাতুল কদরে কোরান খতম করা সম্ভব হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন আরও জানায়, পবিত্র রমজান মাসে যে কোন মোবাইল অপারেটর থেকে ‘৩৩৩’ নম্বরে কল করে নামাজ, রোজা, যাকাত ও ফিতরা সম্পর্কে বিভিন্ন মাসআলা-মাসায়েল এবং সেহরি ও ইফতারের সময়সূচী জানা যাবে। ৩৩৩-এর মাধ্যমে ’১৮ সালের পবিত্র রমজান থেকে চালু করা হয় ইসলামিক সেবার তথ্য প্রদান কার্যক্রম। জনগণের দোরগোড়ায় সেবা প্রদান নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন এটুআই কর্তৃক এই কলসেন্টার চালু করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *