সম্মান দেখাতে সম্মানহানির শিকার মির্জা ফখরুল, হিরো হতে জিরো হলেন যেভাবে

নিউজ ডেস্ক: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে নয় বরং বেগম জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই সংসদে যাননি দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কিন্তু তার সিদ্ধান্তের দূরদর্শিতা বিবেচনা না করেই দলের অভ্যন্তরে চলছে নানা সমালোচনা।

মির্জা ফখরুলের শপথ না নেয়াকে ভুল দাবি করে এরইমধ্যে দলের একাধিক নেতা কঠোর সমালোচনা করেছেন। গয়েশ্বর চন্দ্র তাকে জোকার বলেছেন, আরেকজন নেতা ‘কত টাকা খেয়ে পাঁচজনকে সংসদে যোগদান করিয়েছেন’ মর্মে ফখরুলকে অভিযুক্ত করেছেন। এসবই দল পচনের লক্ষণ বলে মনে করছেন ২০ দলীয় জোটের একাধিক নেতা।

মির্জা ফখরুলকে নিয়ে চলমান দ্বন্দ্বে অসন্তোষ প্রকাশ করে জোটের অন্যতম সদস্য লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ বলেন, সংসদে যাওয়া নিয়ে বিএনপি যা করলো তা রীতিমতো হাস্যকর এবং বিব্রতকর। তারা সরকারকে মানে না, আবার সরকারের সঙ্গে দরকষাকষি করে সংসদে প্রতিনিধি পাঠিয়ে মির্জা ফখরুলরা যা করলেন তা স্রেফ রাজনৈতিক প্রতারণা ছাড়া কিছু নয়।

তিনি আরো বলেন, বিএনপির দশা তো করুণ। মির্জা ফখরুলকে নিয়ে অযথাই জল ঘোলা করছে বিএনপি। মওদুদ আহমদ ও খন্দকার মোশাররফ হোসেন জয়ীদের তালিকায় থাকলে আমরা ভিন্ন চিত্র দেখতাম। মির্জা ফখরুলকে নিয়ে বিএনপির ভেতর এক ধরণের অবিশ্বাস ও অনাস্থা রয়েছে। তাই তাকে নিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরে নোংরা রাজনীতি চলে।

বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল জামায়াতের ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে যাওয়াটা বোকামি ছাড়া কিছুই না। মির্জা ফখরুলের দ্বিমুখী ভূমিকার জন্য ২০ দলীয় জোটের অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ। মির্জা ফখরুলকে সরল মানুষ ভাবলেও তিনি আসলে ধূর্ত প্রকৃতির মানুষ। বিএনপি যেটিকে ‘কৌশলের অংশ’ বলে চালাচ্ছে, সেটা মুখরক্ষার কৌশল বটে।

তারেক রহমানের ‘অনুরোধ’ সত্ত্বেও মির্জা ফখরুল সংসদে যাননি। শেষ মুহূর্তে এই ‘অনুরোধ’ করাটা ছিলো তারেক রহমান বা জিয়া পরিবারের কৌশল। আর অনুরোধ রক্ষা না করা ছিলো ফখরুলের কৌশল। শুনেছি স্থায়ী কমিটির সদস্যদের ঈর্ষার বলিতে পরিণত হয়েছেন মির্জা ফখরুল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *