যুক্তরাজ্যে একাধিক মামলায় হতাশ তারেক, চলছে দেন-দরবার!

নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশের মামলার বোঝা নিয়ে লন্ডনে পালিয়েও স্বস্তিতে নেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মানি লন্ডারিং, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উসকানি দেয়া ও আর্থিক প্রতারণার মামলার জালে নতুন করে জড়িয়ে পড়েছেন তারেক।

জানা গেছে, চলতি মাসের ১ থেকে ৭ মে পর্যন্ত তার নামে অন্তত ৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে লন্ডনে। মামলাগুলোতে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে গ্রেফতার হতে পারেন তারেক, বাতিল হতে পারে রাজনৈতিক আশ্রয়। এক কথায় মামলার আতঙ্কে ভুগছেন বিএনপির এই নেতা। লন্ডনের কিংস্টন এলাকার বাঙালি কমিউনিটির একাধিক নেতার বরাতে তথ্যে সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এই বিষয়ে কিংস্টনের বাঙালি কমিউনিটির নেতা আব্দুল জলিল মন্ডল বলেন, এখন পর্যন্ত তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা চলমান রয়েছে লন্ডনের আদালতে। এসব মামলার বেশির ভাগই অর্থ পাচার, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উসকানি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কারণে দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের ব্যাংকিং খাতের তদন্ত সংস্থা ইকোনোমিক ইন্টেলিজেন্স তার কয়েকটি মামলার তদন্ত করছে।

তিনি আরো জানান, অনেকেই জানেন না হয়ত-গত মাসে দুবার তারেককে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছিল সংস্থাটি। তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পরও কোথা থেকে এত টাকা পান বা কেন তার একাউন্টে বড় সংখ্যায় লেনদেন হয়, এমন অভিযোগের বিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি তারেক। তদন্তের অংশ হিসেবে স্থানীয় স্ট্যান ব্যাংকে তারেক-জোবায়দার দুটি অ্যাকাউন্ট থেকে ৬০ হাজার পাউন্ড জব্দ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এই অর্থের কোন উৎস দেখাতে পারেননি তারা। এসব কারণেই গ্রেফতার আতঙ্কে রয়েছেন তারেক। তার ঘৃণ্য সব অপরাধের কারণে বিদেশের মাটিতে আমাদেরকে নানা কথা শুনতে হয়।

বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে লন্ডন বিএনপি নেতা আব্দুল মালেক বলেন, মামলা হয়েছে সত্য। কিন্তু এসব মামলায় তারেককে আটক করা যাবে না। তবে অর্থ সংক্রান্ত সরকারি মামলা নিয়ে আমরা একটু চিন্তিত। তিনি রাজনৈতিক নেতা, তাই তার অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে টাকা আসে। এই বিষয়গুলো আমরা যুক্তরাজ্য কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তবে ডিসেম্বর মাসের লেনদেন নিয়ে কিছুটা চিন্তায় পড়েছি আমরা।

তিনি আরো বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমরা ম্যানেজ করার চেষ্টা করছি। আইনজীবীদের পরামর্শ নেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন মহলে দেন-দরবার চলছে। আমরা সবকিছুর বিনিময়ে তারেক রহমানের আটক ও প্রত্যাবাসন ঠেকাব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *