জাতীয় বাজেট ২০১৯-২০২০: ধর্মীয় খাতে বরাদ্দ বাড়ছে

বিটিবি নিউজ ডেস্ক: আসন্ন ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট সাজানো হচ্ছে বিশেষ কয়েকটি খাতকে গুরুত্ব দিয়ে। এগুলো হচ্ছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা, দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টির জন্য সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারকরণ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পাশাপাশি সড়ক, রেলপথ ও বন্দরসহ সার্বিক ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন। এবারের বাজেটে ধর্মীয় খাতে ব্যয় বাড়িয়ে প্রত্যেক জেলা ও উপজেলায় একটি করে মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করতে বরাদ্দ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মসজিদগুলো নির্মাণে ৫২১টি স্থান চূড়ান্ত করে প্রশাসনিক নির্দেশ জারি করা হয়েছে। ৪১৯টি কেন্দ্রের ডিজিটাল সার্ভে করা ছাড়াও সেখানকার মাটি পরীক্ষার কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে। এপিপি সম্পন্ন হয়েছে ৩৬৬টি। নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে ১০টি স্থানে। একই সঙ্গে নির্মাণ কাজ শুরুর জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে ২১১টির এবং এনওএ ইস্যু করা হয়েছে ১০৭টির। এই লক্ষ্যে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলে ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

প্রত্যেক জেলা ও উপজেলায় একটি করে মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করতে নেওয়া প্রকল্পে ৬ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।  ইতোমধ্যেই ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে এই প্রকল্পে বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ডিও দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, সব ধরনের অবকাঠামো উন্নয়নে বেশি নজর দেওয়া হবে। মসজিদ ও মন্দির সংস্কারেও বরাদ্দ রাখা হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে পাঠানো ডিও লেটারে জেলা সদরে ৬৪টি, সিটি করপোরেশনে ৫টি ও উপকূলীয় এলাকায় ১৬টিসহ মোট ৮৫টি চারতলা মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। ৪৭৫টি উপজেলায় নির্মাণ করা হবে ৩ তলার মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।

আরও জানা গেছে, ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করতে আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ চাওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে পর্যালোচনা করে বরাদ্দ দেবে বলে জানিয়েছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব আনিছুর রহমান। তিনি বলেছেন, বরাদ্দ পেলে নির্ধারিত সময়েই সুষ্ঠুভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্ভব। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয় ৩৬৯ কোটি টাকা।

এছাড়া আগামী অর্থবছর শুরুর দিন অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে তিন স্তরে কার্যকর করা হবে নতুন ভ্যাট আইন, যা ৫, ৭ ও ১০ শতাংশ হারে হবে। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশের ভ্যাট ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। আয়কর ও করপোরেট কর কমানোর ঘোষণা আসতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *