শতাব্দীর প্রাচীনতম নতুন মসজিদ, সম্প্রীতির অনন্য নজির

বিটিবি নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার রাজবাড়ির অদূরে শতাব্দীপ্রাচীন মসজিদটি আজও ‘নতুন মসজিদ’ নামে খ্যাত। শহরের মুসলিম প্রজাদের জন্য মসজিদ তৈরিতে মহারাজা নৃপেন্দ্রনারায়ণ এক বিঘা ছয় কাঠা নিষ্কর জমি দান করেছিলেন। সেখানেই ১৮৮৫ সালে গড়ে ওঠে ‘নতুন মসজিদ’। আনন্দবাজার

এই জেলায় ‘তোরসা’ পীরের ধাম পরিচালনার আর্থিক দায়ভার বহন করতেন কোচবিহারের মহারাজারা। অন্য দিকে, কোচবিহার শহরের ২০৬ বছরের প্রাচীন রাসমেলার রাসচক্র বংশপরম্পরায় তৈরি করে আসছে এক মুসলিম পরিবার।
নতুন মসজিদ তৈরির নিষ্কর জমিদানের হুকুমনামায় মহারাজ কেবল একটা শর্ত জুড়েছিলেন- ‘এই ভূমির উপর কোনরূপ জীব হত্যা হইতে পারবে না’। সেই নির্দেশের পর একশো বছর পেরিয়েছে। কিন্তু বর্তমান মসজিদ পরিচালন কমিটির সঙ্গে যুক্ত হামিদ হোসেন জানালেন, ‘মহারাজার নির্দেশ আজও মানা হয়। চত্বরে মুরগি পর্যন্তও জবেহ হয় না।’

১৯২৩ সালে ‘নতুন মসজিদ’-এর নবরূপের উদ্বোধন করেন হায়দরাবাদ নবাব পরিবারের সদস্য ও রানির সেক্রেটারি মেজর খসরু জং। সব ধর্মের আটশো-ন’শো মানুষের সমাগমে স্বাগত ভাষণ দেন মসজিদের মৌলবি আনসার উদ্দিন। রাজ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মী আনসার উদ্দিন তাঁর মায়ের স্মৃতিতে ১৯২০ সালে মসজিদের মূল প্রবেশদ্বারের কাছে পানীয় জলের জন্য একটা পাকা কুয়ো খনন করান। মসজিদের সঙ্গে যুক্ত প্রবীণ মানুষদের স্মৃতিতে আজও হিন্দু-মুসলিম মহিলাদের একযোগে মসজিদ চত্বরে পানি সংগ্রহের ছবিটা স্পষ্ট। কিছু হিন্দু পরিবার বিশ্বাসের বশে পানীয় জল হিসাবে মসজিদের পানিই ব্যবহার করেন আজও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *