ঐক্যফ্রন্টে স্বস্তি সহজ নয়, বিএনপিকে শোধরানোর পরামর্শ শরিকদের

নিউজ ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর নির্বাচনকেন্দ্রিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অবস্থা একই দিকে মোড় নিয়েছে। সংসদ নির্বাচনে ঐক্যের বিজয়ীদের শপথগ্রহণ ও সংসদে যাওয়া নিয়ে সে অবস্থা আরও বিপর্যয়ের দিকে গড়িয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে স্বস্তি ফেরাতে বিএনপি চেষ্টা চালালেও তা হয়ে ওঠেনি। তাই ফ্রন্টের অনেক নেতাই বলছেন, জোটের স্বস্তি ফেরানো সহজ হবে না, যদি না বিএনপি নিজেকে শুধরে না নেয়।

জোটের ভেতরে সৃষ্ট অস্বস্তির রেশ ধরে গত ৮ জুন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব একটি বিশেষ বৈঠক ডাকলেও নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার অসম্মতিতে সেটি বাতিল হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বলছেন, আগে বিএনপিকে ঠিক হতে হবে। জোটের ভেতর সৃষ্ট অস্বস্তি কাটাতে বিএনপির উদ্যোগ কতখানি ফলপ্রসূ হবে, তা নির্ভর করছে দলটির কাছ থেকে কিছু জিজ্ঞাসার ‘উত্তরপ্রাপ্তি’র ওপর। সম্মিলিত বৈঠকের আগে বিএনপি যদি শরিক দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য বৈঠকে একত্রিত হতেন তাহলে বিষয়টি ভালো হতো। কেননা, বিভিন্ন ইস্যুতে জোটের নেতাদের মধ্যে নানা জিজ্ঞাসা তৈরি হলেও তার সদুত্তর দেয়ার বা সে সম্পর্কে ধারণা দেয়ার কোনো চেষ্টাই করেনি বিএনপি। বরং বিষয়গুলোকে এড়িয়ে গেছে বলে মনে করছে শরিক নেতারা।

খোদ বিএনপির স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্যও বলছেন, বিএনপির নেতৃত্বকে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে। আর দলটির নেতাদের উচিত এসব প্রশ্নের পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেওয়া। এক্ষেত্রে বর্ধিত সভা ডেকে সবার অভিমত নিয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা যেতে পারে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা বলছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সবচেয়ে বড় দল হিসেবে এবং দেশের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিএনপিকেই সমস্যার সমাধান করতে হবে। এর আগে দল হিসেবে রাজনৈতিক কৌশল ঠিক করতে হবে। এদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত এক নেতা জানান, অন্তত কয়েকটি প্রশ্নের ব্যাখ্যা আগে বিএনপিকে দিতে হবে। এসব প্রশ্নের উত্তর না পেলে ঐক্যফ্রন্ট থাকা আর না থাকা একই সমান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শরিক দলের বেশ কয়েকজন নেতা একইরকম মতবাদ ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেছেন, যেসব সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত বিএনপি নিয়েছে তা স্বেচ্ছাচার-মূলক সিদ্ধান্ত। জোটের সিদ্ধান্ত বিএনপি একাই নিয়ে নিয়েছে। ফলে জোটের সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা না করেই এইসব সিদ্ধান্ত শরিক দলগুলোর নেতাদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করবে তা স্বাভাবিক। সেই অস্বস্তি বৃহৎ আকার ধারণ করেছে যা সহজেই সমাধান হবে বলে আশা করা যাচ্ছে না। জোটের রাজনীতি করতে হলে বিএনপিকে আরও শোধরাতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *