৩৬ কোটি টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ধ্বংসে সন্তুষ্ট হাইকোর্ট

নিউজ ডেস্ক: গত ১৮ জুন হাইকোর্ট এক আদেশে দেশের ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ থাকলে তা জব্দ করে এক মাসের মধ্যে ধ্বংস করতে নির্দেশ দেয়। নির্দেশনা অনুযায়ী সারা দেশে ১৫৮টি ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানির সাড়ে ৩৬ কোটি টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ধ্বংসসংক্রান্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।

অধিদপ্তরের প্রতিবেদন দাখিলের পর বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) এ সন্তোষ প্রকাশ করেন। ওই প্রতিবেদনে দেশের বিভিন্ন জেলায় সাড়ে চার হাজার ফার্মেসি পরিদর্শন করে ১৫২টি মামলা ও এক কোটি টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে বলেও তথ্য রয়েছে।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ বি এম আলতাফ হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। ভোক্তা অধিকারের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কামরুজ্জামান কচি। শুনানিকালে আদালত বলেন, এ কাজ প্রশংসনীয়। তবে এটা চলমান রাখতে হবে। জনসাধারণ, ব্যবসায়ী ও উৎপাদনকারী সবাইকে সচেতন হতে হবে। এ ছাড়া ওষুধের পাতায় (স্ট্রিপ) স্পষ্ট ও বড় হরফে বাংলা ও ইংরেজি লেখায় মেয়াদ, উৎপাদনের তারিখ ও মূল্য লেখার ব্যবস্থা রাখার বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে বলেছেন আদালত। আইনজীবী কামরুজ্জামান কচি বলেন, আইন অনুসারে এটা চলমান প্রক্রিয়া। এর ব্যত্যয় হলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। সারা দেশের পাশাপাশি মিটফোর্ডে অভিযানের বিষয়ে আদালতের প্রশ্নে কামরুজ্জামান কচি বলেন, ১৭টি ফার্মেসিতে অভিযান চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ৮টিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া গেছে।

ওরস্যালাইন, ইনজেকশন ও হাঁপানির ওষুধসহ কয়েকটি ওষুধ আদালতে উপস্থাপন করা হয়। ওইসব ওষুধ দেখে আদালত বলেন, মেয়াদ আছে। তবে সেটা বোঝার উপায় নেই। অনেক মানুষ এটা পড়তে পারবে না। এগুলো দৃশ্যমান হওয়ার দরকার। তাই বিষয়টি দেখার জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয়ের কমিটিকে অবহিত করতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে নির্দেশ দিয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ২২ আগস্ট দিন নির্ধারণ করেন হাইকোর্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *