অশ্লীলতা নিয়ন্ত্রণে ইসলামের নির্দেশনা

তথ্য প্রযুক্তি অপব্যবহারের ফলে মানুষ নানান ধরণের অন্যায়-অপরাধ তথা অশ্লীলতায় নিয়োজিত হচ্ছে। যা উঠতি বয়সী কিশোর যুবক থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধদেরকেও অন্যায় অপরাধের দিকে অনেক বেশি ধাবিত করছে। এ ধরণের সমস্যায় শুধু পুরুষরা আক্রান্ত নন, আছেন মহিলারাও। আর সময় মতো এই অশ্লীলতা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ডেকে আনতে পারে ভয়াবহ বিপত্তি। এ জন্য ইসলাম আমাদের অশ্লীলতা বা  বিকৃত যৌন চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করতে শিখিয়েছে।

ইসলাম একটি সর্বাঙ্গীন মার্জিত ও সুশীল জীবন ব্যবস্থা। উন্নত নৈতিকতা ও চারিত্রিক মাধুর্যের উপর এর নীতি ও আদর্শ প্রতিষ্ঠিত। এর মধ্যে অশালীন–অশ্লীল ও অসভ্য কোন কিছুর স্থান নেই। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন, মুমিনদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গ হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন। (সুরা নুর-৩

মহান আল্লাহ সর্বোতভাবে অশ্লীলতাকে হারাম ঘোষণা করে বলেছেন, “আপনি বলুন, নিশ্চয় আমার রব সকল প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতা হারাম করেছেন।” তিনি অন্যত্র বলেছেন, “প্রকাশ্যে হোক কিংবা গোপনে হোক, অশ্লীল কাজের নিকটেও যেও না।” (৬ : ১৫১)। মহানবী (সা.) বলেছেন, “লজ্জাশীলতা ঈমানের একটি শাখা।” (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)। লজ্জাহীনতা তাই ঈমানবিরুদ্ধ বিষয়। সে জন্যে লজ্জাহীনতা নিয়ে মুমিন থাকা সম্ভব নয়। তাই মুমিন ব্যক্তি নির্লজ্জ হতে পারে না।

মহান আল্লাহ তায়ালা মুসলিম জাতিকে মন্দ কাজ থেকে কেবল দূরে থাকতে আদেশই প্রদান করেননি; বরং এসব অশ্লীল কাজ থেকে জাতিকে দূরে রাখতে যথাযথ কার্যকর ব্যবস্থা নিতে নিদের্শও প্রদান করেন। আল্লাহ বলেন, “আর তোমাদের মধ্যে এমন একটা দল থাকা উচিত, যারা কল্যাণের প্রতি আহ্বান করবে, নির্দেশ করবে সৎ কাজের এবং বারণ করবে অন্যায় কাজ থেকে। আর তারাই হল সফলকাম। (আল-কুরআন, ৩:১০৪)

আল্লাহ ‘আমর বিল মারূফ’ এবং ‘নাহি আনিল-মুনকার’ (সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ) কে মু’মিন ও মুনাফিকদের সাথে পার্থক্যকারী নিদর্শন হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। ফলে কোন মুসলিম অশ্লীল কোন কাজে জড়িত হওয়া তো দূরের কথা বরং অশ্লীল কাজে বাধার প্রাচীর হয়ে দাঁড়ানো তার দায়িত্ব। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, “তোমাদের কেউ অন্যায়-অশ্লীল কর্ম দেখলে তা শক্তি দ্বারা প্রতিহত করবে। যদি সমর্থ না হয় তাহলে কথার দ্বারা প্রতিবাদ করবে। এতেও সমর্থ না হলে বিবেক দ্বারা প্রতিহত করবে। আর এটিই হচ্ছে সবচেয়ে দুর্বল ঈমান।

ইসলাম প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সর্বপ্রকার অশ্লীলতাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। আল্লাহ বলেন, “লজ্জাকর কার্যে জড়িত হয়ো না, সে প্রকাশ্যেই বা গোপনে। (আল-কুরআন, ৬:১৫১) ফলে অশ্লীল কর্ম সমাজে ছড়িয়ে দেয়াও মারাত্মক অপরাধ। আল্লাহ বলেন, “যারা পছন্দ করে যে, ঈমানদারদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার লাভ করুক তাদের জন্যে ইহকাল ও পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে। আল্লাহ জানে, তোমরা জান না। (আল-কুরআন, ২৪:১৯)।

কোন নারীকে কটু কথা বলা, খারাপ ইশারা-ইঙ্গিত করা, হয়রানি করা, গালি দেয়া, ঢিল মারা, পথরুদ্ধ করা যেমন- অশ্লীল কাজ তেমনি কোন নারী-পুরুষের বিকৃত স্থির চিত্র বা নগ্ন ভিডিও ধারণ ও ছড়িয়ে দেয়া কিংবা প্রত্যক্ষ করা অশ্লীল কাজ। রাসূলুল্লাহ (সা.) সব ধরণের অশ্লীল কাজকে নিষেধ করে বলেন, “অশ্লীলতা এবং অশ্লীলতার প্রসার কোনটির স্থান ইসলামে নেই। নিশ্চয় ইসলামে সর্বোত্তম মানুষ হচ্ছে যার স্বভাব-চরিত্র সবার চাইতে সুন্দর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *