সরকারের দৃষ্টি আকর্ষন-শিক্ষকদের জীবন প্রদীপ নিভে যাচ্ছে; প্রায় ২যুগেও ভীমপুর আদর্শ কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়নি

স্টাফ রিপোর্টার: বর্তমান সরকার শিক্ষা বান্ধব সরকার। সরকার নওগাঁয় বিশ্ব বিদ্যালয় কলেজ, জিলা স্কুলসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল, পাবলিক বিশ্ব বিদ্যালয় নির্মাণের অনুমোদন করলেও ভীমপুর আদর্শ কলেজটি আজও এমপিও ভুক্তির আলোর মুখ দেখেনি।

সরকারের দৃষ্টি আকর্ষন-শিক্ষকদের জীবন প্রদীপ নিভে যাচ্ছে;  প্রায় ২যুগেও ভীমপুর আদর্শ কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়নি

বিদ্যালয়টির সরকারি ভবন বরাদ্দসহ দৃষ্টি নন্দন ভবন নির্মাণ হলেও আজ অবদি শিক্ষক কর্মচারীদের বেতনভাতা হয়নি। এ নিয়ে মানুষ গড়া কারিগর শিক্ষকেরা চরম মানবেতরে জীবন যাপন করছে বলে বিটিবি নিউজের একটি অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি এমপি নিয়ে বিগত সময়ে সাবেক সফল বানিজ্যমন্ত্রী প্রয়াত নেতা ও উত্তরবঙ্গের জেনারেল আব্দুল জলিল ওই ভীমপুর আদর্শ কলেজের জন্য নিবেদিত প্রাণ হিসেবে কাজ করে ডিও লেটারও দিয়েছিলেন কিন্তু তা আজও আলোর মুখ দেখেনি। পরবর্তীতে স্থানীয় এমপি ব্যারিষ্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জন এর ডিও লেটার থাকলেও অদৃশ্য কারণে তা এমপিও ভুক্ত হয়নি। যা নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীসহ স্থানীয় শিক্ষা অনুরাগী ব্যক্তিদের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে। ইতিমধ্যে ওই প্রতিষ্ঠানের কেউ কেউ বেতনভাতা ছাড়া স্বেচ্ছায় শ্রমের বিনিময়ে এলপিআর এ চলে গেছেন। আরো অনেকেই এলপিআর এর লম্বা লাইনের তালিকায় রয়েছে। তবুও এমপিও ভুক্তির আশায় প্রায় ২২বছর ধরে গ্রামীণ জনপদে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়ে এমপিও ভুক্তি আশায় আজও দাঁড়িয়ে আছে ভীমপুর আদর্শ কলেজটি। 
জানা গেছে, বিগত সময়ে নওগাঁ সদর উপজেলার দক্ষিনাংশে ‘দিঘলীর’ বিল নামে খ্যাত স্থানে আয়োজিত একমহাসমাবেশে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভাষণ দিয়েছিলেন। সেই বিল সংলগ্ন পশ্চিম প্রান্তে হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নে ভীমপুর আদর্শ কলেজটি অবস্থিত। বঙ্গবন্ধুর প্রিয় ব্যক্তিত্ব জননেতা মরহুম আব্দুল জলিল সাবেক বানিজ্যমন্ত্রী থাকা অবস্থায় তাঁর সহযোগিতায় ১৯৯৯ ইং সালে কলেজটি পাঠদানের অনুমতি প্রাপ্ত হয় এবং ২০০৪ ইং সালে একাডেমি স্বীকৃতি লাভ করে। তারপর থেকে প্রতিষ্ঠানটি সুদীর্ঘ সময়ে নওগাঁর দক্ষিণ বিল এলাকার অবহেলিত জনপদের শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষার্থী ও পাশের হার বেশ সন্তোষজনক। বর্তমানে ছাত্র/ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ২৫০জন। কলেজটিতে ৪র্থ তলা ও.ঈ.ঞ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। মাঠ সহ কলেজটি মনোরম পরিবেশে অবস্থিত। ২০১৮ইং সালে পাশের হার ৮৭% এবং ২০১৯ইং সালে পাশের হার প্রায় ৭২%। বি.বি.সির দেওয়া সাক্ষাৎকারে উত্তরাঞ্চলের শ্রেষ্ঠ, জনপ্রিয় ও জননন্দিত নেতা মরহুম আব্দুল জলিল নওগাঁ হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নকে আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক বলে উল্লেখ করেছিলেন। যেখানে প্রায় ৯০% মানুষ আওয়ামী লীগকে ভালবাসে। সেই ইউনিয়নে প্রতিষ্ঠিত ভীমপুর আদর্শ মহাবিদ্যালয়টি সুদীর্ঘ সময়ে এম.পি.ও ভূক্ত হয়নি। ইতি র্পূবে ২/১ শিক্ষক/কর্মচারি বিনা বেতনে অবসরে গিয়েছে এবং আরও কয়েকজন অবসরে যাওয়ার পথে। নওগাঁ সদর উপজেলার সবচেয়ে বড় মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি এখানে অবস্থিত। এখানে একটি মাধ্যমিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ও রয়েছে। কলেজটির পার্শ্বে একটি স্থায়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র অবস্থিত যা পূর্ণাঙ্গ থানায় রূপান্তর হওয়ার কথা। এমত: মনোরম পরিবেশে ভীমপুর আদর্শ মহাবিদ্যালয়টি অবস্থিত যা অদ্যবধি কলেজটি এম.পি.ও ভূক্ত হয়নি। ফলে সকল শিক্ষক/কর্মচারী মানবেতর জীবন যাপন করছে।
প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মকলেছুর রহমান, কাজী আব্দুল মান্নান, শহিদুল ইসলাম, আল মামুন, ময়নুল হক সহ অনেকেই বিটিবি নিউজকে জানান, কলেজটি প্রতিষ্ঠা লগ্নের পর থেকে প্রায় ২২ বছর ধরে তারা বিনা বেতনে স্বেচ্ছায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। জীবনের শেষ প্রান্তে হলেও তারা হাল ছাড়েনি বা প্রতিষ্ঠান থেকে চলে যায়নি। তারা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে খুবই মানবেতরে জীবন যাপন করছে বলেও জানান। তবুও তারা প্রতিষ্ঠানটির এমপিও ভুক্ত হওয়ার আশায় দিন গুনছে। 
প্রতিষ্ঠানটি খুব দ্রুত গতিতে এমপিওভুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনসহ বেকারত্বদূরীকরণে এবং গ্রাম পর্যায়ে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে এ প্রতিবেদকের মাধ্যমে শিক্ষা বান্ধব সরকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট মানবিক আবেদন জানিয়েছেন ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীসহ স্থানীয় শিক্ষা অনুরাগী ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন পর্যায়ে জনসাধারণ।