প্রত্যেক পুলিশ সুপারকে 'চেঞ্জ মেকার’ ও পুলিশ সদস্যকে 'চেঞ্জ এজেন্ট' হতে হবে ......... আইজিপি ড. বেনজীর আহমদ

প্রত্যেক পুলিশ সুপারকে 'চেঞ্জ মেকার’ ও পুলিশ সদস্যকে 'চেঞ্জ এজেন্ট' হতে হবে <span class=custom-head-ps>......... আইজিপি ড. বেনজীর আহমদ</span>

মো: আব্দুল বারি খান, সম্পাদক ও প্রকাশক: ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি), বাংলাদেশ ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার) বলেন, একজন পুলিশ সুপার হতে পারেন একজন 'চেঞ্জ মেকার', প্রত্যেক পুলিশ সদস্য হতে পারেন এক একজন 'চেঞ্জ এজেন্ট'। জাতিগঠনমূলক কাজে পুলিশ সদস্যদের অমিত সুযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আপনাদেরকে দেশের জন্য, সমাজের জন্য, নিজের পরিবারের জন্য পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে। আমরা ভাল কাজে 'বেস্ট অব দি বেস্ট' হতে চাই।"

তিনি আরো বলেন, "পুলিশের চাকরি করতে হবে ভালবেসে, চাকরিতে 'প্রাইড' নিয়ে আসতে হবে, যাতে আমাদের সন্তানরা গর্বভরে বলতে পারে আমার বাবা পুলিশ ছিলেন, আমার মা পুলিশ ছিলেন। আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের 'জনগণের পুলিশ' হতে চাই।"

আইজিপি বলেন, মানুষ বিপদে পড়ে পুলিশের কাছে আসে। উপস্থিত পুলিশ সদস্যদেরকে প্রশ্ন করে তিনি বলেন, তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করার লাইসেন্স কে দিয়েছে? নিজেদের আচরণে পরিবর্তন আনতে হবে। মানুষকে ভালবাসতে হবে, তাদের সাথে ভাল আচরণ করতে হবে। মানুষকে ভালবাসলে তাঁদেরও ভালবাসা পাওয়া যায়। করোনাকালে আমরা এর প্রমাণও দেখেছি।

আইজিপি ড. বেনজীর আহমদ বলেন, “হুইসেল ব্লোয়ার হোন; কেবল নিজেকে নয়, চারপাশকেও দুর্নীতিমুক্ত রাখতে কাজ করুন”। তিনি বলেন, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত পুলিশ গঠন, জনগণের সাথে অপেশাদার আচরণ বন্ধ করা, বিট পুলিশিং এবং পুলিশের কল্যাণ ইত্যাদি নিয়ে সকল পুলিশ ইউনিটের সদস্যদের সাথে ধারাবাহিক মতবিনিময়ের অংশ হিসেবে ২৭ ডিসেম্বর, ২০২০ তারিখ রবিবার দুপুরে রাজশাহী জেলা পুলিশ লাইনস্-এ রাজশাহী রেঞ্জ ও মেট্রোপলিটন (আরএমপি) এবং অন্যান্য ইউনিটের প্রায় তিন হাজার পুলিশ অফিসার ও ফোর্সের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে এসব মন্তব্য করেছেন।

আইজিপি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গত ১০ বছরে দেশের অভূতপর্ব উন্নয়নের সাথে সঙ্গতি রেখে বাংলাদেশ পুলিশের অনেক সমস্যার সমাধান হয়েছে। পুলিশের আধুনিকায়নের উদ্যোগ চলমান রয়েছে। জনগণকে উন্নততর সেবা প্রদান করতে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন আরামদায়ক করার জন্য আমরা আধুনিক অপারেশনাল গিয়ার চালু করেছি। লং ব্যারেলের পরিবর্তে শর্ট ব্যারেলের অস্ত্র চালু করা হয়েছে। এসবের মূল লক্ষ্য হলো, মানুষকে উন্নতর সেবা প্রদান।

আইজিপি দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে বলেন, আমরা দুর্নীতিমুক্ত পুলিশ গড়ে তুলতে চাই। দুর্নীতি করলে পুলিশে থাকা যাবে না। দুর্নীতি করে কেউ বড়লোক হতে চাইলে তার জন্য পুলিশের চাকরি নয়। বিট পুলিশিংয়ের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে মাননীয় আইজিপি বলেন, বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে আমরা দেশের জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে চাই।

তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের জন্য প্রচলিত কল্যাণ ব্যবস্থার বাইরে ন্যায়সঙ্গত ও ন্যায্যভাবে কল্যাণের ব্যবস্থা করা হবে।

সভায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ অফিসার ও সদস্যগণ আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে আইজিপির দিকনির্দেশনা কামনা করেন। তাদের উত্থাপিত বিষয়গুলো সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন আইজিপি।

‘ডোপটেস্ট’ কে ঘর পরিচ্ছন্ন অভিযান উল্লেখ করে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, বাহিনীর সবার জন্য এটি প্রযোজ্য এবং অব্যাহত থাকবে। পুলিশে মাদকসেবীর কোনো স্থান নেই। বিষয়টি সবার কাছে পরিষ্কার করতে চাই।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে সরকার কাজ করছে। এক্ষেত্রে সৃজনশীল প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগ এবং সময়োচিত ব্যবহারই দেশের আর্থসামজিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারে। সেই লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী দিনবদলের নন্দিত সনদ ‘রূপকল্প ২০৪১’ দিয়েছেন। এর মধ্যে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠার এক সুচিন্তিত কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তারই ধারাবাহিকতায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন এলাকার অপরাধ ও অপরাধী চিহ্নিতকরণ, অপরাধ দমন, জনসাধারণের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে নতুন অ্যাপস উদ্বোধন করা হলো। এটি মেট্রোপলিটন এলাকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে অন্যতম ভূমিকা রাখবে বলেও প্রত্যাশা করেন আইজিপি।

অ্যাপ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আরএমপি কমিশনার মো. আবু কালাম সিদ্দিক ও রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি আব্দুল বাতেন। অনুষ্ঠানে রাজশাহী নগর ও রেঞ্জ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও মোড়ে স্থাপিত সিসি ক্যামেরায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অপারেশন কন্ট্রোল অ্যান্ড মনিটরিং সেন্টারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটর করা হবে। এর মাধ্যমে রাজশাহী মেট্রোপলিটন এলাকায় সন্দেহভাজন ও অপরাধীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, অপরাধীকে দ্রুত শনাক্তকরণ সহজ হবে।

এছাড়া ‘কিশোর গ্যাং ডিজিটাল ডাটাবেজ’ তৈরি করা হয়েছে। ডাটাবেজে প্রায় ৪০০ কিশোরের বিস্তারিত তথ্য এ ডিজিটাল ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ‘হ্যালো আরএমপি অ্যাপ’র মাধ্যমে এখন থেকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে তথ্য প্রদান ও অনলাইনে অভিযোগ করা যাবে।

বাংলাদেশ পুলিশের জরুরিসেবা যেমন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট, অনলাইন জিডি এবং ৯৯৯ জাতীয় জরুরি সেবাসমূহ এ অ্যাপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ অ্যাপ থেকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সব কর্মকর্তার ফোন নম্বর, মোবাইল নম্বর এবং ই-মেইল ঠিকানা পাওয়া যাবে। এছাড়া এ অ্যাপের মাধ্যমে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের ওয়েব পোর্টাল এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালটিও দেখা যাবে।

আইজিপি দুই ঘন্টারও বেশি সময় ধরে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। আইজিপি‘র উপস্থিতি রাজশাহী রেঞ্জ ও মেট্রোপলিটনসহ রাজশাহী অঞ্চলে কর্মরত পুলিশ অফিসার ও ফোর্সকে ভীষণভাবে উজ্জীবিত করেছে, যা তাঁদেরকে নতুন করে জনসেবায় উদ্বুদ্ধ করবে।

তাছাড়া পুলিশবাহিনীতে মাদকাসক্ত পুলিশ সদস্যের কোনো স্থান নেই বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের আইজিপি ড. বেনজীর আহমদ। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অপারেশন কন্ট্রোল অ্যান্ড মনিটরিং সেন্টারসহ কিশোর গ্যাং ডিজিটাল ডাটাবেইজ ও হ্যালো আরএমপি অ্যাপের উদ্বোধনের পর গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের উত্তরে এ মন্তব্য করেন আইজিপি ড. বেনজীর আহমদ।

রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ আব্দুল বাতেন, বিপিএম, পিপিএম এর সভাপতিত্বে উক্ত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ কমিশনার, আরএমপি, রাজশাহী মোঃ আবু কালাম সিদ্দিক। রাজশাহী রেঞ্জ এবং আরএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণসহ রাজশাহী রেঞ্জাধীন সকল জেলার পুলিশ সুপারগণ উপস্থিত ছিলেন।