করোনা প্রতিরোধের প্রচারণায় নওগাঁ জেলা তথ্য অফিস দূর্বার গতিতে কাজ করছে

মো: আব্দুল বারি খান: গোটা বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস মহাআতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। করোনা ভাইরাসের অঘোষিত যুদ্ধে থমকে গেছে গোটা বিশ্ব। রাস্তায় বের হতে ভয় পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশ্বের অনেক দেশেই ক্রমশ বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। সারাদুনিয়ায় আতঙ্ক গ্রাস করেছে সাধারণ মানুষকে। তবে বিজ্ঞানীরা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তারা বলছেন, কিছু নিয়ম মেনে চললেই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। সারা বিশ্বের সাথে পাল্লা দিয়ে মহামারি করোনা থেকে রক্ষা পেতে বাংলাদেশ সরকারের নিদের্শনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরসহ সারা দেশের জেলা-উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সেনাবাহিনী, র‌্যাব দেশের সর্বস্তরে জনসচেতনতামূলক নানা নিয়মকানুনসহ মাইকিং করে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ করছেন।

করোনা প্রতিরোধের প্রচারণায় নওগাঁ জেলা তথ্য অফিস দূর্বার গতিতে কাজ করছে

এরই ধারাবাহিকতায় নওগাঁ জেলা তথ্য অফিস সরকার তথা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্দেশনায় শুরু থেকেই জেলার ৩টি পৌরসভাসহ ১১টি উপজেলার ৯৯টি ইউনিয়নের গ্রাম-গঞ্জসহ বিভিন্ন অঞ্চলে দূর্বার গতিতে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ইতিমধ্যে জেলা তথ্য অফিস জেলাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা এবং জনগুরুত্বপূর্ণস্থানে তারা করোনাভাইরাস সংক্রমনের ঝুঁকি রোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে সরকার তথা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দেয়া সকল পোষ্টার, ব্যানার, বিলবোর্ড টানানো এবং প্রচারণামূলক লিফলেট বিতরণসহ প্রচারণামূলক নানা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। আবার জেলা সদরের মুক্তির মোড়, হাসপাতাল গেট, উপজেলা সদরের মেইন রাস্তাসহ বিভিন্ন উপজেলায় ২টি করে তথ্য বহুল বিলবোর্ড স্থাপন করেছেন। এসব কার্যক্রম পরিচালনায় জেলা তথ্য অফিসার আবু সালেহ মো. মাসুদুল ইসলাম, সহকারি তথ্য অফিসার রূপ কুমার বর্মন, সাইন অপারেটর মো. হাফিজুর রহমান, এপি অপারেটর আমিনুল ইসলাম মন্ডল ও গাড়ি চালক হাফিজুল ইসলাম সকলেই ব্যস্ততম সময় পার করছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমনের ঝুঁকি রোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে ইউনিসেফ বাংলাদেশ এর আর্থিক সহযোগিতায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা এবং ইউনিয়নগুলোতে জেলা তথ্য অফিস রুটিন মাফিক ব্যাপক প্রচারণা করছে। সরকার, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও জেলা প্রশাসনের নানা নির্দেশনা প্রচার করছে জেলা তথ্য অফিস। জেলা তথ্য অফিস করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে অতীব জরুরী প্রয়োজন ব্যতীত ঘরের বাইরে বের না হওয়া, সন্ধ্যা ছয় ঘটিকার পরে কেউ ঘরের বাইরে বের হতে পারবেন না এ নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা, এক এলাকা হতে অন্য এলাকায় চলাচল কঠোরভাবে সীমিত করা, নওগাঁ জেলার বাইরে থেকে কেউ নওগাঁয় প্রবেশ করতে পারবেন না, জেলার অভ্যন্তরে আন্তঃউপজেলা যাতায়াতের ক্ষেত্রেও সরকার তথা জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে, বিকাল ৫ ঘটিকার পর থেকে ওষুধের দোকান ব্যতীত সকল ধরনের দোকানপাট ও বাজার বন্ধ থাকবে, সকল ধরনের গণপরিবহন বন্ধ থাকবে,  শুধুমাত্র জরুরি সেবা ও পরিসেবা, খাদ্য, জ্বালানি ও কৃষি সামগ্রী পরিবহন, এম্বুলেন্স ইত্যাদি এ নির্দেশনার বাইরে থাকবে, এ নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এমন অনেক তথ্য তুলে ধরে জনসচেতনতায় বিরতিহীনভাবে রুটিন মাফিক বিভিন্ন জায়গায় প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে বলে বিটিবি নিউজের একটি অনুসন্ধানের আয়নায় উঠে এসেছে।

করোনাভাইরাস আর আতংক নয়, আসুন সবাই মিলে সচেতন হই, নিরপদ দূরত্ব মেনে চলি, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সরকারের নির্দেশনাগুলো মেনে চলে ঘরেই অবস্থান করি।  বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সরকার সকল ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কর্মহীনসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষদের জীবন বাঁচানোর জন্য ঘরে ঘরে সরকার খাদ্যসামগ্রীসহ নগদ অর্থ পৌঁছে দিচ্ছে। আমাদের সকলের সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে বাংলাদেশকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করতে।  আপনি আপনার পরিবার, প্রতিবেশি, সমাজকে নিরাপদ রাখতে পারলেই রাষ্ট্র তথা সরকার নিরাপদ থাকবে ইনশাল্লাহ্।