রাজস্ব আয় গত ১০ মাসে ১৫ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়েছে

রাজস্ব আয় গত ১০ মাসে ১৫ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়েছে

বিটিবি নিউজ ডেস্ক: চলতি ২০২১-২২ করবর্ষের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়কর, স্থানীয় পর্যায়ের মূল্য সংযোজন কর (মূসক) এবং আমদানি-রপ্তানি শুল্ক মিলে মোট রাজস্ব আয় করেছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৬৪১ কোটি ২৪ লাখ টাকা, যা বিগত করবর্ষের একই সময়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ২১ শতাংশ বেশি। গত করবর্ষের প্রথম ১০ মাসে রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৮৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
এনবিআর সূত্র জানায়, খাতভিত্তিক রাজস্ব আয়ের হিসাব হলো- ১০ মাসে আমদানি ও রপ্তানি শুল্ক খাত থেকে আয় হয়েছে ৭৩ হাজার ৬০ কোটি ২৬ লাখ টাকা, স্থানীয় পর্যায়ে মূসক থেকে ৮৪ হাজার ৮৯৫ কোটি ২১ লাখ এবং আয়কর ও ভ্রমণ কর খাতে ৬৯ হাজার ৬৮৫কোটি ৭৭ লাখ টাকা। তবে, এ সময়ে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আয় কিছুটা পিছিয়ে আছে। ১০ মাসে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৬০ হাজার ৩১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
এ বিষয়ে এনবিআর সদস্য ড. আব্দুল মান্নান শিকদার বাসসকে বলেন,আগের তুলনায় ব্যবসায়ী ও ব্যক্তি করদাতাদের মানসিকতায় অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তারা প্রতিনিয়ত কমপ্লায়েন্ট হচ্ছেন। পাশাপাশি, মাঠ পর্যায়ের কর কর্মকর্তারা তাদের মনিটারিং ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এসব মিলিয়ে রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে ভাল প্রবৃদ্ধি হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি মনে করেন আয়কর ও মূসক রাজস্ব আয় বৃদ্ধি-দেশের সামগ্রিক সুশাসন উন্নতির ক্ষেত্রে অত্যন্ত ভাল দিক। 
মান্নান শিকদার বলেন, আমদানি-রপ্তানি শুল্ক ব্যবস্থায় কর ফাঁকি বন্ধে এনবিআর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। একইসাথে ব্যবসায়ীরা অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন গ্রহন করায় মূসক কর প্রদানের ক্ষেত্রে তারা এখন অনেক বেশি কমপ্লায়েন্ট। আবার প্রত্যক্ষ করের ক্ষেত্রে অধিকসংখ্যক মানুষকে করজালের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।    
তিনি মনে করেন, চলতি অর্থবছরের মে ও জুন মাসে রাজস্ব আয় আগের ১০ মাসের তুলনায় আরও ভাল হবে।
এনবিআরের তথ্যমতে,গত ২০২০-২১ করবর্ষের প্রথম দশ মাসে আমদানি-রপ্তানি শুল্ক থেকে রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ছিল ৬১ হাজার ১৩১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, যা চলতি করবর্ষের একই সময়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৬০ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ১৯ দশমিক ৫১ শতাংশ।