গাইবান্ধার ট্যালেন্ট হান্ট ক্রিকেট একাডেমির দ্বি-দেশীয় সিরিজ খেলতে নেপাল গমন করবে ৯জুলাই

স্টাফ রিপোর্টার: দ্বি-দেশীয় একাডেমি সিরিজ খেলার উদ্দেশ্যে গাইবান্ধার ট্যালেন্ট হান্ট ক্রিকেট একাডেমির অনুর্দ্ধ-১৮ এর ক্রিকেট দল আগামী ৯ জুলাই নেপাল গমন করবে বলে জানা গেছে। এর মাধ্যমে তাদের একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন হবে। ওই সিরিজে ট্যালেন্ট হানট একাডেমি, গাইবান্ধার সাথে নেপালের নেক্সাস ক্রিকেট একাডেমির ৩টি ওয়ানডে ও ৩টি টি টুয়েন্টি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে।

২০১৫ সালে একাডেমির পথ চলা শুরু হয়। প্রথমেই তারা তৃণমূল তথা গ্রাম পর্যায়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রতিভাবান ক্রিকেটারের খোঁজে একাডেমি হান্টিং প্রোগ্রাম হাতে নেয়। পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন, থানা ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন স্কুলে হান্টিং প্রোগ্রাম করা হয়। যার ফলশ্রুতিতে বর্তমানে একাডেমির বিভিন্ন বয়সের ১০০জন ক্রিকেটার রয়েছে বলে জানা গেছে। ৫জন খুদে মেয়ে ক্রিকেটারও রয়েছে একাডেমির কেচিংএ। একাডেমির আবাসিকে ৪০জন ক্রিকেটার অবস্থান করছে এবংদূরবর্তী ছাত্রদের ছাত্রদের জন্য একাডেমির আবাসিকে থেকে ক্রিকেট কোচিং এবং স্কুলে ভর্তি করিয়ে পড়ালেখার যাবতীয় ব্যাবস্থা একাডেমির সহায়তায় করা হয়। একাডেমির আবাসিক ও অনাবাসিক সকল ক্রিকেটারের লেখাপড়ার বিষয়েও নিয়মিত তদারকি করা হয়। কোচিং এর ছাত্রদের মানষিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য নিয়মিত কাউন্সেলিং করা হয় বলেও একটি অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

দেশের তথা উত্তবঙ্গের একটি ক্রিকেট একাডেমির এই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার সুযোগ পাওয়া দেশের ক্রিকেট উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে জেলার বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটার এবং ক্রীড়া সংগঠকগন মনে করেন। দ্বি-দেশীয় সিরিজের বিষয়ে ট্যালেন্ট হান্ট ক্রিকেট একাডেমির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান কোচ আসাদুল হাবিব সুজন (জেলা দলের সাবেক ক্রিকেটার ও কোচিং এর লেভেল ওয়ান সম্পন্নকারী) জানান, ট্যালেন্ট হান্ট ক্রিকেট একাডেমি শুধু ক্রিকেটার তৈরির জন্য নয়, ভালো মানুষ তৈরির ব্রত নিয়েও সৃষ্টি করা হয়েছে। একাডেমির সফলতা বিষয়ে কোচ আরো জানান, ২০১৮সালে ঢাকার ৩য় বিভাগ লীগে ইস্কাটন সবুজ সংঘ দলের সকল ক্রিকেটার ছিল এই একাডেমির। এছাড়াও একাডেমির অনেক ছাত্র ঢাকার ১ম বিভাগ লীগসহ বিভিন্ন পর্যায়ের টুর্নামেনটে খেলছে। আবার এই একাডেমি ২০১৫ সাল হতে ২০১৭ সালে বিভিন্ন বয়স ভিত্তিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজন করে জেলার ক্রিকেট উন্নয়নের সাথে সাথে দেশের জন্য প্রতিভাবান ক্রিকেটার তৈরির কারখানা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরো জানান, একটি আধুনিক একাডেমির জন্য যে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো আবশ্যক তা এককভাবে একাডেমির পক্ষে করা সম্ভব নয়। সে জন্য প্রয়োজন সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা। তাদের আশা ভবিষ্যতে সাকিব, মাশরাফি, মুশফিকদের মতো ক্রিকেটার তৈরির কারখানা হয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করুক এই একাডেমির ক্রিকেটারা। সে জন্য সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসার আহবানও জানান তারা এ প্রতিবেদকের মাধ্যমে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *