শুভ নববর্ষ ১৪২৬

সম্পাদক ও প্রকাশক, মো: আব্দুল বারি খান: ১৪২৬ বঙ্গাব্দের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ। ‘তাপস নিঃশ্বাস বায়ে মুমূর্ষুরে’ উড়িয়ে দিয়ে ‘আজি প্রাতে সূর্য ওঠা’ সফল হলো। পুব আকাশের নতুন সূর্য জানিয়ে দিল ‘ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা সরিয়ে দিয়ে’ এসেছে নতুন দিন। এসেছে নতুন সকাল। এসেছে নতুন বছর। প্রাণের উচছ¡াসে প্রতিটি বাঙালি আজকের দিনটি বরণ করে নিচ্ছে। পালন করছে নববর্ষ। শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে-বাঙালিরা পালন করছে নববর্ষ। সবার মনে একটাই সুর, ‘যাক পুরাতন স্মৃতি/যাক ভুলে যাওয়া গীতি/অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক।’ বাঙালির সর্বজনীন প্রাণের উৎসব এই নববর্ষ। বাঙালির প্রধান সাংস্কৃতিক উৎসব বাংলা নববর্ষ। জীর্ণ-মলিনকে পেছনে ফেলে নতুনকে বরণ করে নেয়ার দিন পহেলা বৈশাখ। স্বাগতম ১৪২৬। শুভ নববর্ষ। ঋতুচক্রের আবর্তনের ধারায় গ্রীষ্মকালেরও সূচনা এই থেকেই। দেশবাসী এবার বর্ষবরণ করছেন মুমূর্ষুকে উড়িয়ে দিয়ে বিগত বছরের সব কলুষ, তামস এবং আবর্জনা দূর হয়ে যাবে এমন প্রত্যাশা এবং স্বপ্ন বুকে নিয়ে। এই দিনে সবার প্রার্থনা : ‘যাক পুরাতন স্মৃতি, যাক ভুলে যাওয়া গীতি/অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক/এসো, এসো, এসো হে বৈশাখ।’
অশান্তি থেকে মুক্তি চায় দেশের শান্তি প্রিয় সাধারণ মানুষসহ দেশের সচেতন মহল। তাই এবার নববর্ষে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশবাসীর পরম চাওয়া হবে একটাই, দেশে বয়ে যাক স্বস্থি আর শান্তির সুবাতাস। সু-বাতাসের প্রবাহ সৃষ্টি করতে এগিয়ে আসতে হবে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে। এক্ষেত্রে সবার সুমতির জন্য প্রার্থনা করবেন দেশের মানুষ। এরই সাথে গড়ে তুলুন সুন্দর আগামীর জন্য মাদক-দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ দমন ও আমার গ্রাম আমার শহর বিনির্মাণে আপনিই উন্নয়নের নতুন বাংলাদেশ।
পহেলা বৈশাখ পরিণত হয়েছে বাঙালির জীবনে সর্ববৃহৎ উৎসবে। নববর্ষ উপলক্ষ্যে দেশবাসীর সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করে শুভেচ্ছা জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা এ উপলক্ষ্যে বাণী দিয়েছেন। আর জাকজমকপূর্ণভাবে সাজিয়েছে কিশোর-কিশোরী, যুব, বয়বৃদ্ধা ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।
বাংলা সনের প্রবর্তন হয় খাজনা আদায়ের সুবিধার্থেই। নববর্ষে দোকানে দোকানে হালখাতা খোলার রীতি আজও প্রচলিত আছে। বৈশাখী মেলাকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক ধরনের প্রাণসঞ্চার হয় প্রতি বছর। হস্তশিল্পের প্রসারে এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। বাংলা নববর্ষ সামনে রেখে শহরাঞ্চলে বুটিক ও ফ্যাশন শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ার খবরও উৎসাহব্যঞ্জক। ক্ষুদ্র ব্যবসা সম্প্রসারণ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে এ শিল্প। এসব কর্মকান্ড আমাদের সংস্কৃতিতে যুক্ত করছে নতুন মাত্রা। বিদেশে বাংলাদেশের কিছু মিশন নববর্ষ উদ্যাপনের মাধ্যমে আমাদের সংস্কৃতিকে বহির্বিশ্বে পরিচয় করিয়ে দিতে ভূমিকা রাখছে। এ প্রয়াস আরও জোরদার হলে বাংলা নববর্ষের পরিচিতি আরও বাড়বে। পহেলা বৈশাখ আপন শিল্প-সংস্কৃতির ধারাকে ঋদ্ধ ও বেগবান করার শপথ নেয়ার দিন।
বৈশাখের সঙ্গে বাংলাদেশের সামাজিক-সাংস্কৃতিক সম্পর্ক যেমন নিবিড়, তেমনি অর্থনৈতিক সম্পর্কও তাৎপর্যপূর্ণ। পহেলা বৈশাখ ও নববর্ষ বাঙালির বিজয় পতাকা আকাশে তুলে ধরে। বাঙালির এই বিজয় হচ্ছে সংস্কৃতির বিজয়। এই সংস্কৃতি বিজয়ের আনন্দের সাথে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে যা গিনেজ ওয়াল্ড রেকর্ড বুকে স্থান পাওয়া লাখো কন্ঠে জাতীয় সংগীত দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এই সাংস্কৃতিক বিজয়ের ফল ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে বাঙালির এই সর্বজনীন উৎসব। নতুন বাংলা বছর ১৪২৬ এর প্রাক্কালে আমরা আমাদের অগণিত পাঠক, লেখক, দেশবাসী, প্রবাসী বাঙালিসহ সকল দেশের বাংলা ভাষাভাষি, বাঙালি সংস্কৃতি অনুরাগী ও শুভানুধ্যায়ীদের জানাই নতুন বছরের আন্তরিক শুভেচ্ছা। খুলে যাক সব সম্ভাবনার অমেয় দ্বার। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় মা-মাটি আর মাতৃভূমির নিবিড় স্পর্শে বাংলার প্রতিটি মেহনতি মানুষ সোনার মানুষ হয়ে উঠবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আর তাই প্রত্যাশাকে ধারণ করে সুন্দর আগামীর জন্য মাদক-দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ দমন ও আমার গ্রাম আমার শহর বিনির্মাণে আপনাকেই উন্নয়নের নতুন বাংলাদেশ হিসেবে সমাজ বিনির্মাণে এগিয়ে যেতে চাই দূর থেকে বহু দূ-রে। এই প্রত্যাশায়- শুভ নববর্ষ ১৪২৬।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *